অর্ধেক নোবেল ইউরোপেই

০৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৫ পিএম | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৪৩ এএম


অর্ধেক নোবেল ইউরোপেই
ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল পুরস্কার। সফল ও অনন্য সাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিবছর সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত পুরস্কারের বেশির ভাগই পশ্চিমা দেশগুলোর দখলে গেছে।

বিজয়ীদের অর্ধেকের বেশিই (৫২%) ইউরোপের নাগরিক। এর পরই রয়েছে উত্তর আমেরিকা। পুরস্কারের ৩২ শতাংশই এই মহাদেশের নিয়ন্ত্রণে। মাত্র ৭ শতাংশ বিজয়ী নিয়ে তৃতীয় স্থানে এশিয়া। এরপর যথাক্রমে রয়েছে আফিকা (৩%), দক্ষিণ আমেরিকা (১%) ও ওসেনিয়া (২%)।

একক দেশ হিসাবে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ পর্যন্ত ২৮১টি পুরস্কার পেয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। এরপর রয়েছে ইউরোপের ব্রিটেন, ৮৮টি। ৮৩টি পুরস্কার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি।

এ বছরও জমে উঠেছে নোবেল আসর। পুরোদমে চলছে পুরস্কার ঘোষণা। ছয় ক্যাটাগরির মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ ক্যাটাগরির পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের মাধ্যমে শান্তিতে নোবেল জিতে নিয়েছেন দুই সাংবাদিক ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ।

এ নিয়ে এ বছর বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। অর্থনীতির পুরস্কার প্রদানের মধ্যদিয়ে আগামী সোমবার শেষ হবে এ বছরের আসর।

১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, সাহিত্য ও শান্তি মোট পাঁচ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। সেই হিসাবে ২০২১ পর্যন্ত এই পুরস্কারের বয়স ১২০ বছর। এ শতাব্দীকালের বেশি সময় ধরে মোট ৬০৮টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আর পুরস্কার বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭২ জনে।

অন্তত চারজন ব্যক্তি দুইবার করে নোবেল পেয়েছেন। এর মধ্যে যার নাম সবচেয়ে খ্যাত, তিনি হলেন মাদাম কুরি। তিনি ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান তেজস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য। আর ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম, এই দুটি ধাতু আবিষ্কারের জন্য।

এ ছাড়া খ্যাতনামা আরও কয়েকজন নোবেল লরিয়েটের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (১৯২১), কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র (১৯৬৪) ও মহামতি নেলসন ম্যান্ডেলা (১৯৯৩)।

সম্প্রতি নোবেলে নারীর সংখ্যা বাড়লেও কিছু কিছু পুরস্কারে এখনো নারীরা পিছিয়ে আছেন। নোবেল জয়ের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বড় একটা ব্যবধান রয়েছে। বিজয়ীদের ৯০ শতাংশই পুরুষ। ২০২০ সালে মোট ১১ জনের মধ্যে মাত্র চারজন ছিলেন নারী। চলতি বছর এই ব্যবধান আরও বেশি।

এখন পর্যন্ত মোট ১০ বিজয়ীর মধ্যে মাত্র একজন নারী। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নোবেলের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত একটি পুরস্কার। ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত দুজন নারী এই পুরস্কার পেয়েছেন। পদার্থবিজ্ঞানে এ পর্যন্ত পেয়েছেন তিনজন। রসায়নে পেয়েছেন পাঁচজন।

সাহিত্যে নোবেল পদকজয়ী প্রথম মহিলা সাহিত্যিক ছিলেন সুইডিশ লেখিকা সেলমা লেগারলফ। তিনি ১৯০৯ সালে এই পদক লাভ করেন। অন্যদিকে প্রথম আমেরিকান নারী হিসাবে সাহিত্যে যিনি নোবেল পদক পান তিনি হলেন টনি মরিসন। শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রথম নারী ছিলেন অস্ট্রিয়ার বার্থা ভন সাটনার।

অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী একমাত্র নারী হলেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ এলিনর অস্ট্রম। ২০০৯ সালে আরেক অর্থনীতিবিদ অলিভার ই. উইলিয়ামসনের সঙ্গে যৌথভাবে এই পদক লাভ করেন এলিনর। মা ম্যারি কুরির অসমাপ্ত কাজ নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করে রসায়নে নোবেল পদক পান তার মেয়ে আইরিন কুরিও।